উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রথমে প্রয়োজন এটা সঠিকভাবে
নির্ণয় করা। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন শনাক্ত করার উপায়
হচ্ছে রক্তচাপ মাপা। কিন্তু সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপার জন্য সতর্কতার প্রয়োজন
রয়েছে। যে সকল কারণে রক্তচাপ মাপায় গড়মিল হয় সেগুলি হোলঃ
1. যান্ত্রিক ত্রুতিঃ সতর্ক থাকলে বেশীরভাগ সময় এটা এড়ানো যায়।
2. সময় এবং অবস্থাভেদে সুস্থ- স্বাভাবিক মানুষেরও রক্তচাপ কিছু
বাড়া-কমা হতে পারে।
3. চিকিৎসকের নিকট আসলেই অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যাবার একটা প্রবণতা
থাকে। এটাকে হোয়াইট কোট হাইপারটেনশন (white coat hypertension) বলা হয়।
কারও রক্তচাপ একবার মেপেই তাকে উচ্চ রক্তচাপের
রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্তত এক সপ্তাহ থেকে কয়েক সপ্তাহ
অন্তর আরও দুই বার রক্তচাপ মেপে সিদ্ধান্তে আসা উচিৎ। কারণ রক্তচাপের
বিষয়ে অনেকেই খুব সংবেদনশীল। রক্তচাপ সঠিকভাবে না মাপার ফলে অনেকে অযথা দুশ্চিন্তায়
ভুগতে পারেন। এজন্য ভালো রক্তচাপমান যন্ত্র দিয়ে উপযুক্ত পরিবেশে
রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিৎ।
একবার কোন রোগীর উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হলে তার সার্বিক
মূল্যায়নের জন্য তিনটি বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া উচিতঃ
1. রোগীর উচ্চ রক্তচাপ কি প্রাথমিক (primary or essential
hypertension) অর্থাৎ এর কি কোন শনাক্ত
যোগ্য কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? নাকি এটা সেকেন্ডারি অর্থাৎ এর পেছনে কোন শনাক্ত
যোগ্য কারণ নিহিত আছে।
2. উচ্চ রক্তচাপের
কারণে নির্দিষ্ট অঙ্গসমূহ (target organs) (যেমনঃ মস্তিস্ক, হৃদপিণ্ড, রেটিনা, কিডনি ইত্যাদি)
ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিনা?
3. উচ্চ রক্তচাপজনিত
জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার মতো ঝুঁকি উপাদান রয়েছে কিনা? যেমন- পরিবারের অন্য কারও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে কিনা,
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস আছে কিনা, অতিরিক্ত মোটা কিনা, শারীরিক পরিশ্রম করে কিনা,
ধূমপান কিংবা মদ্য পানের অভ্যাস আছে কিনা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রয়েছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে
জানার প্রয়োজন রয়েছে।
এজন্য উচ্চ রক্তচাপের
চিকিৎসা শুরু করার আগে রোগী এবং তার পারিবারিক ইতিহাস ভালোভাবে জানা উচিৎ। এছাড়া তার শিক্ষা,
কর্মস্থল পরিবেশ, সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক, অবসর বিনোদনের ধরন-প্রকৃতি
সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন। এরপর পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি
ইনভেস্টিগেশন করে রক্তচাপের চিকিৎসা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিৎ।

No comments:
Post a Comment